সাধারণ জিজ্ঞাসা

১। প্লাজমা কি?
উত্তরঃ প্লাজমা বা রক্তরস হল রক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি হালকা হলুদাভ তরল যা সাধারণত দেহের বিভিন্ন প্রকার রক্তকোষ ধারণ করে। মানব দেহের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগই হল প্লাজমা আর প্লাজমার ৯০% ই পানি। তাই কেউ প্লাজমা দান করলে ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শরীর তা আবার পূরণ করে ফেলে। শুধু স্বাভাবিক খাবার আর যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করলেই চলবে।
৪। প্লাজমা থেরাপি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় নির্দিষ্ট কোনো ভ্যাকসিন অথবা কোনো ওষুধ না থাকায় রোগিদের প্লাজমা থেরাপি একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্লাজমা থেরাপি সাব কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ খান। আক্রান্ত হওয়ার প্রথম দিকে যদি কারো শরীরে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করা যায় তাহলে ভালো ফল পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি।
২। প্লাজমা ডোনেশন কি নিরাপদ?
উত্তরঃ প্লাজমা (Blood Plasma) ডোনেশন খুবই সহজ ও নিরাপদ একটি প্রক্রিয়া। এ পদ্ধতিতে ডোনারের শরীর থেকে সংগ্রহীত রক্ত Sterile Tube এর মাধ্যমে সেন্ত্রিফিউজ (Centrifuge) মেশিনে যায়। Plasmapheresis পদ্ধতিতে রক্ত থেকে প্লাজমা আলাদা হয়ে একটি প্লাজমা ব্যাগ-এ জমা হয়। আর রক্ত পুনরায় ডোনারের শরীরে দিয়ে দেওয়া হয়। সময় লাগে মাত্র ৬০-৯০ মিনিট। জীবাণুমুক্ত, নিষ্পত্তিযোগ্য সূঁচ এবং অন্যান্য সরবরাহগুলি একবার ব্যবহার করা হয়। প্লাজমা ডোনেশন করে আপনি কোনও সংক্রামক রোগের সংক্রমণ করতে পারবেন না।
৩। আপনি কতদিন পরপর প্লাজমা ডোনেট করতে পারবেন?
উত্তরঃ আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, একজন ব্যাক্তি প্লাজমা দান করার ৪৮ ঘণ্টা পর পুনরায় প্লাজমা দান করতে পারেন। অর্থাৎ একজন ব্যাক্তি সপ্তাহে ২ বার চাইলেই প্লাজমা দিতে পারেন নিরাপদে। এজন্য শুধু বেশি করে পানি আর স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে। তারপরও যদি কারো আশংকা থাকে, অন্তত প্রতি সপ্তাহে ১ বার তো প্লাজমা ডোনেট করাই যায়।

সর্বশেষ দাতা ও গ্রহীতার তালিকা পেতে সাবস্ক্রাইব করুন